তালুকদার হাম্মাদ, ইবি প্রতিনিধি:
“বেগম খালেদা জিয়া শুধুমাত্র বিএনপির চেয়ারপারসন বা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের সকল দল-মত-পথের একজন নেত্রী। সুতরাং তাঁর অবমাননা মানে হচ্ছে বাংলাদেশের অবমাননা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের অবমাননা। কারণ এই মহীয়সী নারী তার পুরো জীবনটা উৎসর্গ করে দিয়েছেন এ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ও গণতন্ত্রের জন্য।” রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ছিঁড়ে পদদলিতের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক ও ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, গত ১৫ তারিখে বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ছিঁড়ে পদদলিত করার ঘটনাটি ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত এই ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তার মানে এই প্রশাসন যে সম্পূর্ণ ব্যর্থ, এটি আর নতুন করে ব্যাখ্যা করার কোনো প্রয়োজন নেই। অতীতেও বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় পতাকাকে অবমাননা এবং বেগম খালেদা জিয়া ও স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার নজির রয়েছে। তাই আমি এ ঘটনাকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছি না। আমি এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সহকর্মী সাদিয়া আসমা রুনার হত্যাকান্ডের কিছুদিন আগেও আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যাকাণ্ড এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত হয়েছে। কিন্তু একটি হত্যাকান্ডেরও বিচার এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন করতে পারেনি। প্রশাসনের এই জাতীয় নীরব এবং নির্লিপ্ততা এবং কচ্ছপ গতিতে অগ্রসরতার কারণে আমি মনে করি যে একটি ব্যর্থ প্রশাসন। আমি মনে করি একটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দ্রুত ত্বরান্বিত না হওয়ার কারণেই দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। আমি এ দুটি হত্যাকাণ্ডেরও অতি দ্রুত সুষ্ঠু বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ছিঁড়ে পদদলিতের প্রতিবাদে এ ঘটনায় একই সাথে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ইবি শাখা জিয়া পরিষদ, ইউট্যাব এবং জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট। এসময় শাখা জিয়া পরিষদের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক নজিবুল হক, ড. মিজানুর রহমান, বর্তমান সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুকুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান খান, ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদসহ শতাধিক শিক্ষক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত ১৫ এপ্রিলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে কতিপয় ছাত্র নামধারী দুষ্কৃতিকারীদের দ্বারা সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও জাতীয় পতাকার ছবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ছিন্ন করে পদদলনের মাধ্যমে অবমাননার ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। জাতীয় পতাকা আমাদের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। একইসঙ্গে দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননা করা শুধু ব্যক্তির প্রতি নয়, বরং রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর আঘাত। এ ধরনের ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে প্রশাসন ভবনে তালা দেয় বিভাগটির শিক্ষার্থীরা। এসময় শিক্ষার্থীদের সাথে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এক কর্মচারী। পরে, ওই কর্মচারীর উপর রাগান্বিত হয়ে সামনে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার ছবিযুক্ত কয়েকটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেল বলে জানান শিক্ষার্থীরা। এদিকে, এ ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের একটি কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
Leave a Reply