সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাবরক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের একাধিক ভিডিও নিয়ে উপজেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে , নিজ অফিসের দাপ্তরিক টেবিলে বসেই দু,জন ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের কাছ থেকে প্রকল্পের বিল বানানোর জন্য গুনে গুনে ঘুষের টাকা নিচ্ছেন মোস্তাফিজ । শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভিডিও গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখার পর উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে । সরকারি অফিসে বসে প্রকাশ্যে এমন ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত এই দুর্নীতিবাজ হিসাব রক্ষকের চাকরি থেকে অপসারণ সহ বিভাগীয় ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা। অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর রহমান সাতক্ষীরা সদর থানার লাবসা গ্রামের আবুল কালামের ছেলে ।
জানা গেছে, মুস্তাফিজুর রহমান ২০০৫ সালে প্রকল্পের মাধ্যমে এল জি ই ডির চাকরিতে যোগদান করেন। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে অর্থাৎ ২০১৩ সালে হাইকোর্টের মামলার রায়ে চাকুরি স্থায়ীকরণ হয় তার । এমন সুযোগ পেয়েই জড়িয়ে পড়েন দূর্নীতিতে তিনি । চাকরি করার সুবাদে সাতক্ষীরার লাবসা গ্রামে গড়ে তুলেছে আলিশান দ্বিতলা ভবন সহ নামে বেনামে রয়েছে অঢেল সম্পত্তি। চাকরি করা কালীন যে সমস্ত জেলা, উপজেলাতে বদলি হয়ে চাকুরী করেছে সেখানে ঘুষ, দুর্নীতি ,চাঁদাবাজির কারণে বারবার নিজেকে বদলি হতে হয়েছে তাকে ।
কালিগজ্ঞ উপজেলার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে কালিগজ্ঞ উপজেলার চাম্পাফুল ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সাইদুর রহমান ও কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কামরুজ্জামানের কাছ থেকে প্রকল্প কাজের বিল তৈরির জন্য ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেন মোস্তাফিজুর রহমান । ওই সময় তারা লেনদেনের ভিডিওটি কৌশালে মুঠো ফোনে ধারন করে রাখে তারা । পরে ভিডিওটা কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয় স্থানীয় কয়েকজন সংবাদকর্মী ।
তিনি আরো বলেন, মোস্তাফিজ যে সমস্ত জেলা ও উপজেলাতে চাকুরী করেছে সেখানে ঘুষ বাণিজের আখড়া খানায় পরিনত হয়েছে ।এর আগে তালা উপজেলাতে থাকা কালীন ঘুষ নেওয়ার করণে পত্র পত্রিকার শিরোনাম হয়েছেন বহুবার ।দূনীতির অভিযোগে তাকে খুলনা জেলার রুপসা উপজেলায় বদলি করা হলেও তদবির বাণিজ্যের মাধ্যমে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ফিরে আসেন তিনি। এরপর ঘুষ কেলেংকারীতে জড়িয়ে সর্বশেষ ২০২৫ সালের মে- মাসে কালীগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি অফিসে যোগদান করেন তিনি ।
নাম না প্রকাশ জানোর শর্তে কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, মোস্তাফিজুর নতুন কাজের চুক্তি, কার্যাদেশ ও অন্যান্য কাগজ পত্র প্রস্তুত করতে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ নেন । তবে বরাদ্দের টাকা বেশি হলে সেক্ষেত্রে বেড়ে যায় তার ঘুষের অংক। ঘুষের টাকা না দিলে তাকে ঘুরতে হয় মাসের পর মাস অফিসের বারান্দায় ।এছাড়া উপজেলার কোন ব্যক্তি নতুন বাড়ির প্লান তৈরি করতে গেলে তাকে ২০ হাজার টাকা দিতে হয় আগে । এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, এসিল্যান্ড, উপজেলা প্রকৌশলী এবং সহকারী প্রকৌশলীর নাম ভাঙিয়ে আরো হাতিয়ে নেন ৫০ হাজার টাকা।
ঘুষ গ্রহনের বিষয়টি অস্বীকার করে কালিগজ্ঞ এলজিইডি অফিসের হিসাবরক্ষক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন , এ বিষয়ে আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন তারা বিষয়টি সব জানেন।
কালিগজ্ঞ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, আমি কয়েকদিন ছুটিতে থাকার কারণে বিষয়টি আমার জানা ছিল না।অফিসে বসে কেউ যদি কোন ব্যাক্তিগত লেনদেন করে থাকে তাহলে সে দায় আমার নয় ।
Leave a Reply