1. admin@alokitodesh.com : admin :
বেরোবির দেয়ালে জয় বাংলা, ৯ মাসেও জমা পড়েনি তদন্ত প্রতিবেদন - alokitodesh
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম:
বাঞ্ছারামপুরে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা সভা নরসিংদীতে পুকুর থেকে ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার সুন্দরগঞ্জে বজ্রপাতে ৪ নারীসহ আহত-৫ জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে জবি ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ সাদুল্লাপুরে ডিবির অভিযানে ২৯৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রংপুরে বিএনপির ৪৩ নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান সুন্দরগঞ্জে খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু দুধের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ালে শক্তিশালী হবে প্রান্তিক অর্থনীতি’ রংপুরের ডিসি রংপুরে ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল, ভিডিও ভাইরাল জবি ক্যারিয়ার ক্লাব: সাফল্যের দেড় দশকের অগ্রযাত্রার উপাখ্যান

বেরোবির দেয়ালে জয় বাংলা, ৯ মাসেও জমা পড়েনি তদন্ত প্রতিবেদন

  • আপডেট : সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫৪ জন দেখেছেন

বেরোবি প্রতিনিধি: রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) গত বছর জুলাই শহিদ দিবসের দিনে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে হয়েছে ‘জয় বাংলা’ লেখার ঘটনা ঘটে।এতে ক্যাম্পাস জুড়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা হয়।তারই প্রেক্ষিতে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।তদন্ত কমিটি গঠনের সময় ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল।কিন্তু তদন্ত কমিটি গঠনের ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন জমা পড়েনি কোনো প্রতিবেদন ।

গতবছর ১৫ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন, যাত্রী ছাউনি, লাইব্রেরীসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেয়ালে দেয়ালে জয় বাংলা, শেখ হাসিনা ফিরবে ইত্যাদি দেয়ালে দেখা যায়।এর প্রতিবাদ জানায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক দল গুলো।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সবুর খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,বেরোবিতে মূলত তদন্ত কমিটি হয় লোক দেখানোর জন্য। এখানে শুধু তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় যাতে সবাইকে বোঝানো যায় যে না আমরা তদন্ত করি। তদন্ত কমিটি যদি রিপোর্ট দিতে না পারে তবে এই কমিটি করে মানুষের সাথে মশকরা করা বাদ দিক৷ আর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দিবে না কারন নিজেদের মধ্যে সমঝোতা হয় বোধহয় যেগুলো যৌন নির্যাতনের ঘটনায় আমরা লক্ষ্য করেছি ঠিক তেমনি জয় বাংলার তদন্ত রিপোর্ট আপতত জয় বাংলায় ধরে নেওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিফাত হোসেন রাফি বলেন, প্রায় ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব যদি দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতেন, তাহলে এত দীর্ঘ সময় লাগার কথা নয়। এই বিলম্ব স্বাভাবিকভাবেই আমাদের মধ্যে সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে। এছাড়া শোনা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজে একজনকে শনাক্ত করা হয়েছিল—তাহলে তাকে এখনো সামনে আনা হলো না কেন? তদন্ত কমিটি কি তাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে—এ প্রশ্নও উঠে আসে।
আমরা বারবার সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি যে, ক্যাম্পাসে এখনো পদধারী ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিষিদ্ধ ঘোষণার পরও তারা দেয়াল লিখনের মতো কর্মকাণ্ড করে পার পেয়ে যাচ্ছে। এমনকি বিভিন্ন হলেও তাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
এর পাশাপাশি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়—বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী দোসর হিসেবে পরিচিত কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তা কীভাবে এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সময়মতো ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজ ক্যাম্পাসে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটত না।

শিবির সমর্থিত বেরোবি শিক্ষার্থী পরিষদের সভাপতি ও ব্রাকসুর ভিপি ক্যান্ডিডেট আহমাদুল হক আলবির বলেন,২০২৫ সালের ১৫ জুলাই, অর্থাৎ জুলাই শহীদ দিবসে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ কর্তৃক দেয়ালে “জয় বাংলা” লিখনের ঘটনার তদন্তে কমিটি গঠন করা হলেও আজ পর্যন্ত প্রায় নয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য এত দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও তদন্ত ও বিচারকার্যে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।এতে করে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রশ্ন জাগছে—প্রশাসন কেন বারবার যে কোনো অন্যায়ের ক্ষেত্রে শুধু তদন্ত কমিটি গঠনেই সীমাবদ্ধ থাকে? কেন সেই তদন্তের বাস্তব প্রতিফলন বা বিচার আমরা দেখতে পাই না?

 

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ড. ইলিয়াছ প্রামানিক বলেন, আমরা এটা নিয়ে কাজ করেছি।সিসিটিভি ফুটেজ ও দেখেছি কিন্তু এখনো সনাক্ত করতে পারি নি।পরে রাস্তায় লাগানো সিটি কর্পোরেশনের সিসিটিভি ফুটেজেও দেখেছিলাম আমরা।সেখানে পাইনি।আমরা খুব দ্রুত রিপোর্ট পাঠাবো।বেশি বেশি সিসি ক্যামেরা লাগালে এর এই ধরনের কার্যবলি গুলো সনাক্ত করা সহজ হয়।

উল্লেখ্য,বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা ও কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. ইলিয়াছ প্রামানিককে আহ্বায়ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মাহবুবকে সদস্য সচিব করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, প্রক্টর ও ইলেকট্রিক্যাল ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড.ফেরদৌস রহমান, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাসুদ রানা এবং আইসিটি সেলের ইঞ্জিনিয়ার ও শাখা প্রধান বেলাল হোসেন। এই কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 alokitodesh.com
আইটি সহযোগিতায় আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির
Copyright © 2025 | alokitodesh.com | All Rights Reserved.