রংপুর ব্যুরো :
রংপুর বিভাগে ২০২৫ সালে প্রতি চারজন বাসিন্দার মধ্যে একজন ব্র্যাকের বিভিন্ন সেবার আওতায় এসেছেন। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও পয়োনিষ্কাশন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ নানা ক্ষেত্রে এসব সেবা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রংপুর নগরের আরডিআরএস বাংলাদেশ ভবনের বেগম রোকেয়া মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রংপুর বিভাগে ব্র্যাকের ৮ হাজার ৫৯৬ জন কর্মী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৯ শতাংশ নারী। বিভাগজুড়ে সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচির ৪৭৭টি এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগের ৫১টি কার্যালয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের অ্যাডভোকেসি ফর সোশ্যাল চেঞ্জ কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক নাফিউল হাসান বলেন, ১৯৭২ সালে ত্রাণ কার্যক্রমের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ব্র্যাক বর্তমানে মানুষের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সম্ভাবনা বিকাশে কাজ করছে। তিনি বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. শহিদুল ইসলাম এনডিসি। তিনি বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, যার মধ্যে ব্র্যাক অন্যতম। মানবসম্পদের উন্নয়ন নিশ্চিত না হলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ফারুক আহমেদ বলেন, শিক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তিনি রংপুর অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও কৃষকদের উন্নয়নে ব্র্যাকের সঙ্গে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বৈষম্য দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল) বলেন, বাংলাদেশ থেকে জন্ম নেওয়া ব্র্যাক আজ বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে পিছিয়ে থাকা রংপুর অঞ্চলের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে রংপুর বিভাগে ২৪ হাজার ২৩৬টি অতিদরিদ্র পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৯৩৩টি পরিবার অতিদারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। জলবায়ু সহনশীলতা কার্যক্রমের আওতায় সহায়তা পেয়েছেন ১১ হাজার ৮২৯ জন এবং ১ হাজার ৮৬০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বিভিন্ন সেবা পেয়েছেন।
মাইক্রোফাইন্যান্স কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ২৩ লাখ সদস্য রয়েছেন, যাঁদের ৯০ শতাংশ নারী। এ ছাড়া ১ হাজার ১১২ জন বেকার যুবককে উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের আওতায় বিভাগে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৭ জনের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করা হয়েছে। গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সেবা পেয়েছেন ২ লাখ ৬৪ হাজার ১০৮ জন নারী। নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা হয়েছে ৭৩ হাজার ৬৩০টি। এ ছাড়া ২ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষের চক্ষু পরীক্ষা এবং ৭৯টি ছানি অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রংপুর জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মোছা. রোকসানা বেগম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজীসহ প্রশাসন, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।
Leave a Reply