সততাই কি তবে তার অপরাধ? এমন প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর মেরিন ডিপার্টমেন্টে। সেখানকার প্রধান প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলামকে ঘিরে শুরু হয়েছে নোংরা খেলা। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের চাঁদা চেয়ে ব্যর্থ হয়ে কতিপয় সাংবাদিক তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
দীর্ঘ ২৫ বছরের চাকরিজীবন রবিউল ইসলামের। ২০০১ সালে জুনিয়র অফিসার হিসেবে যোগ দেন। প্রতিটি পদোন্নতি পেয়েছেন সুনামের সঙ্গে। কিন্তু সম্প্রতি একটি ঠিকাদার সিন্ডিকেট তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়েছে। কারণ একটাই, তিনি অনিয়ম মেনে নেন না। আর এর জের ধরেই ছড়ানো হচ্ছে কাল্পনিক দুর্নীতির গল্প।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকৌশলী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘বিশ ড্রেজার প্রকল্প’ কেন্দ্রিক দুর্নীতি, খালাতো ভাই ওলি ও জাকিরের মাধ্যমে ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারদের টাকায় বাসার বাজার ও গাড়ি ব্যবহার, ‘বে-টেক’ নামক প্রতিষ্ঠানে বেনামে অংশীদারিত্ব, বসুন্ধরা, বারিধারা ও সেগুনবাগিচায় বিপুল পরিমাণ বেনামী ফ্ল্যাট-প্লট ক্রয়ের অভিযোগ আনা হয়েছে; একই সঙ্গে গ্রামে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘মসজিদ’ নির্মাণ, হুণ্ডির মাধ্যমে অর্থ পাচারের মতো অভিযোগ আনে।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মনগড়া বলে দাবি করেছেন রবিউল ইসলাম।
তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি অপপ্রচারের শিকার। ‘বিশ ড্রেজার প্রকল্প’ নিয়ে আমার নামে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ওই প্রকল্পের কর্মকর্তাই ছিলাম না। যারা ছিলেন তারা সবাই বর্তমানে অবসরে আছেন। ঠিকাদারি সিন্ডিকেট বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগটি একেবারেই ভিত্তিহীন; যোগ্যতার ভিত্তিতেই সব ঠিকাদার কাজ পান। আর ব্যক্তিগত গাড়ি ও বাসার বাজারের মতো ঠুনকো দাবিগুলো মূলত আমার সামাজিক সম্মান ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা মাত্র।
ল্যাব ব্যবহার ও পার্টনারশিপ ও নিজের সম্পদসহ অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর মেরিন ডিপার্টমেন্টের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, কোনো নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ল্যাব ব্যবহার বা পার্টনারশিপের তথ্যটি সম্পূর্ণ বানোয়াট। সম্পদ নিয়ে যে অতিরঞ্জিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। ব্যাংক লোন এবং ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তার আর্থিক নিয়মের মধ্যেই পড়ে, একে অর্থ পাচারের সঙ্গে মেলানো হাস্যকর। নিজ এলাকায় যে মসজিদ নির্মিত হয়েছে, তা কোনো একক ব্যক্তির টাকায় নয়, বরং স্থানীয়দের সমন্বিত ধর্মীয় উদ্যোগ ও অনুদানে তৈরি।
তিনি আরও বলেন, মসজিদটি আনুমানিক পৌনে ২ কোটি টাকা দানের মাধ্যমে ৫ বছর ধরে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে নির্মিত হয়েছে। এটা নিয়ে বর্বর, হীনমন্যতা, কুৎসিত মনমানসিকতার দুষ্ট চরিত্রের মানুষ নামের অসভ্যরা এটাকে ভিন্ন মাত্রায় তুলে ধরেছেন।
প্রধান প্রকৌশলী বলেন, কর্মজীবনে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করি। এটা বাধাগ্রস্ত করতেই মূলত আমার বিরুদ্ধে এই পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত মে মাসের ১৯ তারিখ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে বানোয়াট নিউজ করে কতিপয় সাংবাদিক আমার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল টাকা না দিলে নিউজ পাবলিশ করে দেবে। আমি আমার সততায় অটল ছিলাম। চাঁদা না দেওয়ায় দেড় মাসেরও বেশি সময় আগে করা সেই মিথ্য নিউজটি গত ৩ জুলাই বিআইডব্লিউটিএর ফেসবুকে শেয়ার করা হয়। এতে স্পষ্ট বোঝা যায় সবকিছু ছিল পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।
Leave a Reply