ভ্রমণ ডেস্ক :
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওর এখন এক রূপকথার রাজ্য। মাইলের পর মাইল জুড়ে ফুটে থাকা গোলাপি রঙের হুড়হুড়ে ফুল এই অঞ্চলকে প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে নতুন এক স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। হুড়হুড়ে ফুলের দেশ: বড় হাওরের রূপকথা- হাওর মানেই আমরা জানি জলরাশি আর মাছ ধরার নৌকা। কিন্তু শীতের শেষে করিমগঞ্জের বড় হাওর ধারণ করে এক ভিন্ন রূপ। বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে গোলাপি, সাদা ও বেগুনি রঙের ফুলের সমারোহ যেন কোনো শিল্পীর নিপুণ হাতে আঁকা ক্যানভাস।
ফুলের পরিচয় ও বিশেষত্ব- নাম: স্থানীয়ভাবে এটি হুড়হুড়ে ফুল নামে পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নাম: ক্লিওম হাসলারিয়ানা। ইংরেজি নাম: ঝঢ়রফবৎ ঋষড়বিৎ বা মাকড়সা ফুল। বৈশিষ্ট্য: এই ফুলগুলোর লম্বা পুংকেশর দেখতে মাকড়সার পায়ের মতো। গাছগুলো ৪-৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। মূলত দক্ষিণ আমেরিকার উদ্ভিদ হলেও বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলে এটি প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায়। কেন এত ফুল ফোটে? বর্ষাকালে এই বীজের সুপ্তাবস্থা থাকে পানির নিচে। শুষ্ক মৌসুমে পানি নেমে গেলে হাওরের উর্বর মাটি, আর্দ্রতা ও সূর্যের আলো মিলে ফুল ফোটার আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়।
জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই ফুলের রাজত্ব চলে, তবে ফেব্রুয়ারি মাসে সবথেকে বেশি ফুল দেখা যায়। কিভাবে যাবেন?- হুড়হুড়ে ফুলের এই রাজ্যে যেতে হলে আপনাকে প্রথমে আসতে হবে কিশোরগঞ্জ জেলায়। ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ- ১. ট্রেন: কমলাপুর থেকে এগারোসিন্ধুর প্রভাতী (সকাল ৭:১৫, বুধবার বন্ধ) বা অন্যান্য ট্রেনে আসতে পারেন। ২. বাস: মহাখালী বা সায়দাবাদ থেকে অনন্যা পরিবহনে আসা যায়। কিশোরগঞ্জ থেকে বড় হাওর- কিশোরগঞ্জ স্টেশন বা বাসস্ট্যান্ড থেকে সিএনজিতে করিমগঞ্জ যেতে হবে (ভাড়া ৮০-১০০ টাকা)। সেখান থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় জয়কা বড় হাওর এলাকায় পৌঁছাতে হবে। পথের শেষ অংশে কিছুটা কাঁচা রাস্তা ও হাঁটাপথ রয়েছে। আশেপাশে আর যা দেখবেন- করিমগঞ্জ ভ্রমণে গেলে আরও কিছু দর্শনীয় স্থান আপনার তালিকায় রাখতে পারেন: বালিখলা ঘাট: হাওরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
অল-ওয়েদার সড়ক: ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রামের মাঝ দিয়ে যাওয়া বিখ্যাত সড়ক। ছাতিরচরের করচবন: পানির ওপর ভেসে থাকা অরণ্যের সৌন্দর্য। জঙ্গলবাড়ি দুর্গ: ঈসা খাঁর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান। হাওরের তাজা মাছের স্বাদ নিতে ভুলবেন না। রুই, পাবদা বা শিং মাছের ঝোল দিয়ে গরম ভাত এখানকার স্পেশালিটি। করিমগঞ্জ বা কিশোরগঞ্জ সদরে ভালো মানের হোটেল পাওয়া যাবে। করিমগঞ্জে থাকার সুবিধা সীমিত, তাই রাত কাটানোর জন্য কিশোরগঞ্জ শহরের আবাসিক হোটেলগুলোতে ফেরাই বুদ্ধিমানের কাজ। কিছু জরুরি টিপস: সেরা সময়: ফেব্রুয়ারি মাস। ফটোগ্রাফি: সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের সময় সেরা ছবি পাওয়া যায়। প্রস্তুতি: ভালো মানের হাঁটার জুতা সাথে রাখুন। সতর্কতা: ফুল ছিঁড়বেন না এবং হাওরের প্রকৃতি পরিচ্ছন্ন রাখবেন।
Leave a Reply