ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। কোরবানির পশু কেনা থেকে শুরু করে মসলাপাতি, নতুন পোশাক- সব মিলিয়ে ঈদের বাজার মানেই এক বিশাল আয়োজন। তবে একটু পরিকল্পনা করে বাজারে গেলে সময়, অর্থ ও শ্রম তিনটোই বাঁচানো সম্ভব।
বাজারে যাওয়ার আগে কী কী লাগবে তার একটি পূর্ণ তালিকা তৈরি করুন। কোরবানির মসলা, গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় জিনিস, পোশাক- সব আলাদা করে লিখুন। তালিকা ছাড়া বাজারে গেলে প্রয়োজনীয় জিনিস বাদ পড়ে এবং অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটায় বাজেট ছাড়িয়ে যায়।
কোন খাতে কত খরচ করবেন তা আগেই নির্ধারণ করুন। পশু কেনা, মসলাপাতি, পোশাক ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ আলাদা করে হিসাব করুন। বাজেটের বাইরে গেলে পরে, বিপদে পড়তে হতে পারে।
ঈদের আগের দিনগুলোতে বাজারে প্রচণ্ড ভিড় থাকে। সকাল সকাল বাজারে গেলে ভিড় কম থাকে, দোকানিরা তুলনামূলক সময় দেন এবং ক্লান্তিও কম হয়। শেষ মুহূর্তে বাজারে গেলে পছন্দের জিনিস নাও পেতে পারেন।
পশু কেনার আগে ভালোভাবে দেখেশুনে নিন। পশু সুস্থ কিনা, দাঁত ও বয়স ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন। একাধিক হাট ঘুরে দাম যাচাই করুন এবং তাড়াহুড়ো করে কিনবেন না। সম্ভব হলে পরিচিত কাউকে সঙ্গে নিন যিনি পশু চেনেন।
ঈদের দু-তিনদিন আগেই মসলাপাতি কিনে রাখুন। শেষ মুহূর্তে মসলার দাম বেড়ে যায় এবং অনেক সময় সংকটও দেখা দেয়। আদা, রসুন, পেঁয়াজ, গরমমসলা, জিরা, ধনে— সব একসঙ্গে কিনে ফেলুন।
ঈদের সময় এটিএম বুথে দীর্ঘ লাইন থাকে। আগেই প্রয়োজনীয় নগদ টাকা তুলে রাখুন। পাশাপাশি বিকাশ, নগদ বা রকেটের মতো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপ চার্জ দেওয়া ও প্রস্তুত রাখুন।
ঈদের বাজারে প্রচণ্ড ভিড়ে শিশু হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। শিশুদের হাত ধরে রাখুন এবং সম্ভব হলে তাদের বাসায় রেখে যান। বয়স্কদের নিয়ে গেলে ভিড় ও গরমের বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখুন।
মাছ, মাংস বা দুধের মতো পচনশীল পণ্য বাজারের একদম শেষে কিনুন। এতে গরমে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে। সম্ভব হলে বরফ বা ঠান্ডা ব্যাগ সঙ্গে নিন।
ঈদের আগে ভেজাল মসলা, নিম্নমানের পণ্য ও বেশি দামে বিক্রির প্রবণতা বাড়ে। পরিচিত দোকান থেকে কিনুন এবং রসিদ নিন। অপরিচিত ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতার কাছ থেকে কেনাকাটায় সতর্ক থাকুন।
একটু পরিকল্পনা আর সতর্কতা— এটুকুই পারে ঈদের বাজারকে ঝামেলামুক্ত ও আনন্দময় করে তুলতে। সবার ঈদের কেনাকাটা হোক সুন্দর ও নিরাপদ।
এডি/ আমিন
Leave a Reply