এডি ডেস্ক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে সাংবাদিকতার ক্ষমতার দাপট ও ভয়ভীতি দেখিয়ে এক অসহায় ব্যক্তির পৈতৃক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে এম এ আউয়াল নামের এক স্থানীয় সাংবাদিক ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের শালিস বৈঠকের রায়ের পরও গত কয়েক মাসে কোনো সুরাহা পায়নি ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের তাতুয়াকান্দি গ্রামে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাংবাদিক এম এ আউয়াল এবং তার ভাই জমির আলী নিজেদের পেশাগত ও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে একই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের ১৮৫১ দাগের আধা শতকেরও বেশি জায়গা বিগত ১৫ বছর ধরে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন। শুধু তাই নয়, ওই জায়গার ওপর একটি টয়লেট ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করে তা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন তারা।

ভুক্তভোগী মোহাম্মদ হোসেন জানান, নিজের পৈতৃক জায়গা ফিরে পেতে নিরুপায় হয়ে তিনি বাঞ্ছারামপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ছলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উল্লাহ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার আমিন দ্বারা জায়গাটি পরিমাপ করা হয়। আমিন ও স্থানীয় বিচারকেরা প্রতিবারই পরিমাপ শেষে জায়গাটি মোহাম্মদ হোসেনের বলে রায় দেন।

শালিস বৈঠকে অভিযুক্তরা এক সপ্তাহের মধ্যে জায়গাটি ছেড়ে দেওয়ার অথবা বাজারমূল্যে টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তারা তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। উল্টো জায়গা বা টাকা চাইতে গেলে সাংবাদিকতার প্রভাব ও বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে নিজের শেষ সম্বলটুকু ফিরে পেতে এবং শালিসের রায় কার্যকর করার আশায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও তাতুয়াকান্দি গ্রামবাসী।
Leave a Reply