তৌহিদুল ইসলাম তুহিন, মেহেরপুর
মেহেরপুর জেলায় ফিলিং স্টেশনের পাশাপাশি ডিলার পয়েন্টগুলোতে ডিজেল বিক্রি শুরু হওয়ায় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কাটিয়ে এখন সহজেই ডিজেল পাচ্ছেন চাষিরা।
জেলার ১৭টি ডিলার পয়েন্টের অধিকাংশেই ইতোমধ্যে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানি থেকে সীমিত পরিমাণে ডিজেল পেয়ে তা সরাসরি কৃষকদের মাঝে বিতরণ করছেন ডিলাররা। ফলে প্রত্যন্ত গ্রামের কৃষকরাও নিজ এলাকার কাছাকাছি থেকেই জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন।
এর আগে ডিজেল সংগ্রহ করতে গিয়ে কৃষকদের ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হতো। অনেক সময় রাতভর অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। বর্তমানে ডিলার পয়েন্টের মাধ্যমে সহজে ডিজেল পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি ইঞ্জিনের জন্য ৫ লিটার করে ডিজেল দেওয়া হচ্ছে।
কৃষক গোলাম রসুল বলেন, “আগে পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ডিজেল পাওয়া যেত না। এখন ডিলারের মাধ্যমে সহজে তেল পাচ্ছি, এতে অনেক সুবিধা হচ্ছে।” আরেক কৃষক রমজান আলী জানান, “আগে ২০০ টাকার তেল পেতেও কষ্ট হতো। এখন ৬০০ টাকার পর্যন্ত ডিজেল পাচ্ছি, এতে আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি।”
ডিলার ফিয়াজ উদ্দিন বলেন, “ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় কম তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। সরবরাহ বাড়ানো হলে কৃষকদের সমস্যার পুরোপুরি সমাধান সম্ভব।” মেসার্স আমিনুর অ্যান্ড ব্রাদার্সের পরিচালক আমিনুর জানান, “আগে কৃষকরা লাইনে দাঁড়িয়ে হতাশ হতেন। এখন আমাদের মাধ্যমে তুলনামূলক বেশি পরিমাণ তেল পাচ্ছেন। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সঠিকভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা হচ্ছে।”
জ্বালানি তেল মনিটরিংয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাজওয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জানান, জেলায় ফিলিং স্টেশনের পাশাপাশি একটি প্যাকড পয়েন্ট ও ১৬ জন ডিলারের মাধ্যমে তেল সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় মেহেরপুর সদর উপজেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, “ন্যায্যমূল্যে তেল বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কেউ বেশি দামে বিক্রি করলে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হচ্ছে।”
প্রশাসনের এমন উদ্যোগে কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে এবং তারা এ কার্যক্রমকে স্বাগত জানিয়েছেন।
Leave a Reply