আলোকিত দেশ ডেস্ক:
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই পরিচালনায় ব্যবহৃত ডেটা সেন্টারগুলো স্কটল্যান্ডে বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহার করছে—যা বছরে প্রায় ২. ৭ ০ কোটি আধা-লিটার বোতল ভরার সমান। বিবিসি নিউজের এক অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে।
এআই প্রযুক্তি যেমন চ্যাট জিজিটি এবং গুগল জেমিনি চালাতে বিশাল আকারের সার্ভার-ভিত্তিক ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন হয়। এসব সার্ভার অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করায় সেগুলো ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পানি ব্যবহার করা হয়।
তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের পর থেকে স্কটল্যান্ডে ডেটা সেন্টারগুলোর পানি ব্যবহার চারগুণ বেড়েছে। বর্তমানে সেখানে ১৬টি ডেটা সেন্টার রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্কটিশ ওয়াটার জানিয়েছে, এই পানি ব্যবহারের পরিমাণ “উল্লেখযোগ্য” হলেও তা মোট পানি সরবরাহের মাত্র ০.০০৫%। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, ভবিষ্যতে েএআই খাতের দ্রুত বিস্তারের ফলে পানির ওপর চাপ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে অধিকাংশ ডেটা সেন্টার “ওপেন লুপ” কুলিং সিস্টেম ব্যবহার করে, যেখানে প্রতিনিয়ত নতুন পানি সরবরাহ প্রয়োজন হয়। তবে ধীরে ধীরে “ক্লোজড লুপ” সিস্টেমে যাওয়ার চেষ্টা চলছে, যেখানে একই পানি পুনঃব্যবহার করা হয়।
গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, এই পানি ব্যবহার স্কটল্যান্ডের প্রতিটি মানুষের জন্য বছরে অতিরিক্ত ২.৪৮ লিটার পানির সমান। একইসঙ্গে এসব ডেটা সেন্টারের কার্বন নিঃসরণও উল্লেখযোগ্য, যা প্রতিজন মানুষের বছরে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত গাড়ি চালানোর সমান প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষক আনা বশিরি বলেন, “ডেটা সেন্টারের পানি ও কার্বন ব্যবহার খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কিন্তু এটি সাধারণ মানুষের চোখে তেমন দৃশ্যমান নয়।”
এদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওপেন এআই জানিয়েছে, তারা টেকসই প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে “ওয়াটার পজিটিভ” লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অপ্রয়োজনীয় এআই ব্যবহার কমানো এবং বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়েও পরিবেশগত প্রভাব কমানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপও সৃষ্টি করছে—যা টেকসই উন্নয়নের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
উৎস: BBC Scotland
Leave a Reply