জবি প্রতিনিধি
ক্লাসরুমের তাত্ত্বিক শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের পেশাগত দক্ষতার সেতুবন্ধন তৈরি করে ১৫ বছর পূর্ণ করলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব (জেএনইউসিসি)। ২০১১ সালের ১ জুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক তরুণ শিক্ষার্থীর সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও প্রচেষ্টার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব।
ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যকে সামনে রেখে গড়ে ওঠা সংগঠনটি আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে সক্রিয়, কার্যকর ও বৃহৎ ছাত্র-নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। প্রতিষ্ঠার শুরুতে হাতে-গোনা কয়েকজন দূরদর্শী শিক্ষার্থী এবং ছোট পরিসরের কিছু সেমিনার দিয়ে পথচলা শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষকবৃন্দ ও সাবেক সদস্যদের যৌথ প্রচেষ্টায় এটি ক্যাম্পাসে একটি সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার সচেতনতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাব (জেএনইউসিসি) এর মূল লক্ষ্য শুধু গতানুগতিক চাকরিপ্রার্থী তৈরি করা নয়, বরং শিক্ষার্থীদের দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী ও দূরদর্শী প্রফেশনাল হিসেবে গড়ে তোলা। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সংগঠনটি নিয়মিত ক্যারিয়ার গাইডেন্স ও চাকরিবিষয়ক তথ্যসহায়তা প্রদানের পাশাপাশি নানাবিধ সময়োপযোগী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এর ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতি ও প্রতিযোগিতামূলক বাজারের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করছে।
শিক্ষার্থীদের সার্বিক স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও চাকরিবিষয়ক তথ্যসহায়তা দিতে ক্লাবটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের নিয়মিত আয়োজনের মধ্যে রয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় পেশাদারদের মেন্টরশিপে ক্যারিয়ার সেমিনার ও কর্মশালা, সার্টিফিকেশন কোর্স, প্রেজেন্টেশন ও পাবলিক স্পিকিং প্রোগ্রাম। এছাড়া শিক্ষার্থীদের প্র্যাক্টিক্যাল এক্সপেরিয়েন্স দিতে সিভি রাইটিং, লিডারশিপ ও সফট স্কিল ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি আইডিয়া ও বিজনেস কেইস কম্পিটিশন এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুরের মতো নানাবিধ সুদূরপ্রসারী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে সংগঠনটি।
গত ১৫ বছরে ক্লাবটি হাজারো শিক্ষার্থীর দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। প্রত্যেক বছর জবি ক্যারিয়ার ক্লাব তার নিজস্ব কিছু সিগন্যাচার প্রোগ্রাম আয়োজন করে থাকে। এগুলো হলো: নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক বছরব্যাপী “লিডারশিপ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এলডিপি)”; একুশ শতকের পরিবর্তনশীল চাকরি বাজারে কর্মসংস্থান দক্ষতা উন্নয়নে পেশাদার বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী “আপলিফট ইউর ক্যারিয়ার” প্রোগ্রাম; অনলাইনভিত্তিক কন্টেন্ট রাইটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, লোগো মেকিং, ভিডিওগ্রাফির প্রতিযোগিতা “ক্রিয়েটিভ ম্যানিয়াক”; উপস্থাপনা ভীতি দূরীকরণ ও উন্নয়নে “হেভ পাওয়ার অন পাওয়ার-পয়েন্ট & প্রেজেন্টেশন” প্রতিযোগিতা এবং দেশসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিয়ে আন্তঃবিশ্ববিদ্যায় বিজনেস কেইস কম্পিটিশন “ড্যাকয়েট অব এক্সিলেন্স”; পেশাদার এটিএস ফেন্ডলি সিভি রাইটিং সেশন “ক্রাপ্টিং ক্যারিয়ার স্টরি” ইত্যাদি। এসব আয়োজন শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ক্লাবের অন্যতম উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ ‘জাতীয় চাকরি মেলা’ শিক্ষার্থীদের সরাসরি চাকরি ও ইন্টার্নশিপের সুযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বহু শিক্ষার্থী দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে। ২০২৫ সালে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল জব ফেয়ার’-এ ৪০টির বেশি দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে; যার মাধ্যমে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীর চাকরি ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
বিগত ১৫ বছরে এই সংগঠনের নেটওয়ার্ক বা যোগাযোগ ব্যবস্থা শুধু ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং বিভিন্ন গবেষণা সংস্থায়। এই ক্লাব থেকে তৈরি হওয়া বহু শিক্ষার্থী আজ দেশ-বিদেশে সফল উদ্যোক্তা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছেন। চমৎকার এক ঐতিহ্য বজায় রেখে এই সাবেক সদস্যরা নিয়মিত ক্যাম্পাসে ফিরে এসে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং বা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে পারস্পরিক সহযোগিতার এক অনন্য সংস্কৃতি তৈরি করেছে।
ক্লাবের চিফ মডারেটর সহকারী অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি একুশ শতকের প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারের জন্য শিক্ষার্থীদের আগাম সচেতন ও প্রস্তুত করার প্রচেষ্টা থেকে এই প্লাটফর্ম এর জন্ম। সেই থেকে আজকে ১৫বছরের পথচলা। এটি এমন একটি প্লাটফর্ম, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রোগ্রাম আয়োজন করে কাজের মাধ্যমে শিখে এবং নিজেদের প্রতিভা বিকাশ ও দক্ষতা উন্নয়ণের সুযোগ পায়।
Leave a Reply