এডি ডেস্ক
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। এই ঘটনার বিচার দাবিতে এবং হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রত্যাশায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সকল একাডেমিক কার্যক্রম ও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ৫ ফেব্রুয়ারি, যখন আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে টাইব্রেকারে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ জয় লাভ করে। ম্যাচ শেষে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা কাটাকাটির জেরে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ উঠেছে, সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোটা ও ইট নিয়ে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এতে দায়িত্বরত শিক্ষক ড. ছালেহ উদ্দিনসহ প্রায় ২০ জন আহত হন, যার মধ্যে একজন শিক্ষার্থীর অবস্থা বর্তমানে আশঙ্কাজনক।
এরই প্রতিবাদে আজ রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের সামনে বিশাল মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রতিবাদ সভায় শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন যে, সুস্থ ক্রীড়া সংস্কৃতির আড়ালে শিক্ষকদের ওপর হামলা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা এই হামলাকে ‘শিক্ষক লাঞ্ছনা’ ও ‘ক্যাম্পাস সন্ত্রাস’ হিসেবে অভিহিত করে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত দোষীদের শনাক্ত করে স্থায়ী বহিষ্কার এবং ফৌজদারি মামলা দায়ের করা না হচ্ছে, ততক্ষণ তারা ক্লাসে ফিরবেন না।
শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে হামলায় ভিডিওতে শনাক্তকৃতদের স্থায়ী বহিষ্কার, হত্যাচেষ্টার দায়ে মামলা দায়ের, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো ব্যক্তিদের শাস্তি প্রদান এবং আহত শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বহন করা। একইসঙ্গে সাংবাদিকতা বিভাগের পক্ষ থেকে তোলা খেলোয়াড় সংক্রান্ত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে তারা জানান যে, যথাযথ নিয়ম মেনেই তারা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
Leave a Reply