আবু রায়হান:
চীন, ভারত বা আমেরিকার মতো বিদেশি শক্তির ঋণের আশায় বসে না থেকে বন্ড চালুর মাধ্যমে নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তিস্তা অববাহিকার রাজনৈতিক ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ। সরকারের কাছে প্রশ্ন তুলে তারা বলেন, দেশের নিজস্ব টাকায় যদি পদ্মা সেতুর মতো মেগা প্রকল্প সম্ভব হয়, তবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেন নিজস্ব অর্থায়নে করা যাবে না। শুক্রবার বিকেলে রংপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘পদ্মা হলে তিস্তা নয় কেন’ শীর্ষক এক তিস্তা সংহতি সভায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন। তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই সংহতি সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী।
সংহতি সভায় বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুগের পর যুগ ধরে সব সরকারই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এর কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। অথচ এই অঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক মুক্তি এই নদীর সুরক্ষার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এই সংকট থেকে উত্তরণে সরকারকে সঞ্চয়পত্রের আদলে ‘তিস্তা বন্ড’ চালুর আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, তিস্তাপাড়ের মানুষ নিজেরাই এই বন্ড কিনে প্রকল্পের অর্থ জোগাতে প্রস্তুত। এছাড়া দেশের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে এবং সংবিধানের আলোকে নদীপাড়ের মানুষের অধিকার রক্ষায় আগামী বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দের জোর দাবি জানানো হয়। সভা থেকে তিস্তা নদী রক্ষা ও মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ৬ দফা দাবি পেশ করা হয়।
এই ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ১ জুলাই তিস্তা অববাহিকার ৫টি জেলায় একযোগে মশাল প্রজ্বলণ ও গণঅনশন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এই চূড়ান্ত আন্দোলনকে সফল করতে পুরো জুন মাস জুড়ে ৫টি জেলার ১২টি উপজেলায় উঠান বৈঠক, পথসভা, হাটসভা, লিফলেট বিতরণ ও গণসমাবেশের মতো ব্যাপক গণসংযোগ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে আয়োজকরা জানান।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমানের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য বখতিয়ার হোসেন শিশির। কেন্দ্রীয় সদস্য আলমগীর কবিরের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর জামায়াতের আমীর এটিএম আজম খান, জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আল মামুন, লক্ষিটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদি, ডাউবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মশিউর রহমান, সুজন জেলা সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু, রিহ্যাব সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার শেখ রেজওয়ান, বাংলার চোখের প্রতিষ্ঠাতা তানবীর হোসেন আশরাফি, আইনজীবী মাহে আলম, শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি অশোক সরকার, কিন্ডার গার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মোহাম্মদ আলী এবং জাসাস নেতা এসএম রাসেলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও প্রগতিশীল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
Leave a Reply