1. admin@alokitodesh.com : admin :
তাহেরপুর হাটে খাজনার নামে চাঁদাবাজি - alokitodesh
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৪৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম:
সকাল-সন্ধ্যা যে আমলে দিন বরকতময় ও জীবন থাকবে নিরাপদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার ফিরলো জোবাইক, পরীক্ষামূলকভাবে চালু জবি আইইআরে শিক্ষক সংকট: সেশনজটে ৩০০ শিক্ষার্থী মনোহরদীতে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি: সভাপতি মোস্তফা, সম্পাদক ইসমাইল ‘পশুত্ব নয়, মানবিকতাই হোক পুলিশিংয়ের মূল শক্তি’ নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারে উৎসাহ কারিতাসের জকসুর উদ্যোগে এআই ফর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট চালু রংপুরে চলন্ত মিনিবাসের চাকা ব্লাস্ট, নিহত এক, আহত অন্তত ৩০ বাঞ্ছারামপুরে ডিইএব এর উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন অবৈধভাবে সরকারি ইজারাকৃত জলমহল দখলের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে : প্রতিকার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন

তাহেরপুর হাটে খাজনার নামে চাঁদাবাজি

  • আপডেট : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ১৬ জন দেখেছেন

এডি প্রতিবেদক :

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তাহেরপুর হাটে খাজনা আদায়ের নামে অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্ধারিত বা আদায়কৃত অর্থের সঙ্গে রশিদে উল্লেখিত টাকার কোনো মিল নেই। বিএনপি নেতার ইজারা নেওয়া হাটের রশিদের কোথাও ১০ টাকা, কোথাও ২০ টাকা লেখা থাকলেও বাস্তবে তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন হাটে আসা বিক্রেতারা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিক্রেতাদের অভিযোগ, নতুন ইজারাদারের নিয়োজিত লোকজন ইচ্ছেমতো খাজনা আদায় করছেন। অনেক ক্ষেত্রে খাজনা নেওয়ার পর রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। আবার কোথাও কম টাকার রশিদ দিয়ে বেশি অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে। এতে রাজস্ব ফাঁকি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাহেরপুর হাটের ইজারাদার পৌরসভা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাগাতি। তার নামে ব্যবহৃত রশিদে ১০ বা ২০ টাকা উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে আদায় করা অর্থের পরিমাণ আরও বেশি। এমন অভিযোগ করেছেন একাধিক ব্যবসায়ী।

গত শুক্রবার (৫ জুন) হাটে সুপারি বিক্রি করতে আসা শহিদুল ইসলাম জানান, ৮০০টি সুপারি বিক্রির পর প্রতি ১০০ সুপারিতে ২০ টাকা হারে তার কাছ থেকে খাজনা নেওয়া হয়। তবে প্রথমে তাকে ১০ টাকার রশিদ দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে ২০ টাকার উল্লেখসহ আরেকটি রশিদ দেওয়া হয়। কিন্তু তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ১৬০ টাকা।
পান বিক্রেতা সাজেদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, “এক পুয়া পান বিক্রি করে ২ হাজার ৯০ টাকায়। কিন্তু আমাকে দেওয়া হয়েছে ২ হাজার টাকা। খাজনা নিয়েছে ৯০ টাকা। কিন্তু রশিদ দেওয়া হয়েছে ২০ টাকার। অনেক সময় রশিদই দেওয়া হয় না। এছাড়াও পান ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও খাজনার নামে চাঁদাবাজি করা হয়।’’
অভিযোগ রয়েছে, হাস হাটাতে ক্রেতা ও বিক্রেতা দুই জনের কাছে থেকেই খাঁজনা আদায় করা হয়। আবার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো খাজনাই নেওয়া হয় না।

হাটে খাজনা আদায়ে এমন বৈষম্য ও অসঙ্গতিতে ব্যবসায়ীদের ও কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের প্রশ্ন, সরকারি নিয়ম মেনে খাজনা আদায় হলে রশিদে প্রকৃত অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হবে না কেন? আর রশিদের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়ে থাকলে সেই অর্থ কোথায় যাচ্ছে?
তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, সাইফুল ইসলাম বাগাতির নামে হাট ইজারা থাকলেও তার পিছনে রয়েছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। মুলত: তিনিই নিয়ন্ত্রণ করেন হাট। এ জন্য তিনি বাগাতির নেতৃত্বে একটি বাহিনীও গড়ে তুলেছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাহেরপুর হাটের ইজারাদার সাইফুল ইসলাম বাগাতির সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত দুইটি নাম্বারে ফোন দেওয়া হলেও রিসিভ করেননি।
অন্যদিকে, উপজেলা প্রশাসন কিংবা তাহেরপুর পৌরসভার পক্ষ থেকেও খাজনা আদায়ের নির্ধারিত হার, তদারকি ব্যবস্থা কিংবা অভিযোগের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে খাজনা আদায়ের দায়িত্বে থাকা ইজারাদারপক্ষের লোকজনের দাবি, খাজনা যত টাকাই আদায় করা হোক, রশিদে ১০ অথবা ২০ টাকা উল্লেখ করার নিয়ম তাদের রয়েছে। এ বিষয়ে কারও অভিযোগ থাকলে হাট অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাহেরপুর হাটে খাজনা আদায়ের পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, রশিদে অসঙ্গতি ও সম্ভাব্য রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এদিকে খাজনা আদায়ের সঙ্গে রশিদের অঙ্কের অমিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও তদারকি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের মতে, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করা না হলে এ অনিয়ম আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 alokitodesh.com
আইটি সহযোগিতায় আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির
Copyright © 2025 | alokitodesh.com | All Rights Reserved.