জবি প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে বাধার সৃষ্টির ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদ (জেএনইউএফএস)।
আজ রবিবার এক লিখিত বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত করার এ প্রবণতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শিল্পচর্চার পরিসর সংকুচিত করার যেকোনো প্রচেষ্টা কেবল শিল্পী, নির্মাতা বা সাংস্কৃতিক কর্মীদের জন্যই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক ও প্রগতিশীল সমাজের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
চলচ্চিত্রকে সমাজ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মানুষের অভিজ্ঞতাকে ধারণ ও বিশ্লেষণের একটি শক্তিশালী শিল্পমাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে জেএনইউএফএস জানায়, এটি কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়।
চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ভিন্নমত, প্রশ্ন, সমালোচনা কিংবা বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।
সংগঠনটি জানায়, কোনো চলচ্চিত্র বা সাংস্কৃতিক আয়োজনকে ভয়ভীতি, অপপ্রচার কিংবা সংগঠিত চাপের মাধ্যমে বন্ধ করার চেষ্টা স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চার পরিপন্থী।
কোনো শিল্পকর্মের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তার জবাব আলোচনা, সমালোচনা কিংবা যুক্তিনির্ভর মতপ্রকাশের মাধ্যমে হওয়া উচিত বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
জেএনইউএফএস জানায়, প্রদর্শনী বন্ধ করা, হুমকি প্রদান বা সাংস্কৃতিক পরিসর সংকুচিত করা কখনোই এর সমাধান হতে পারে না। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে শিল্পী, নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর মধ্যে অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা একটি সুস্থ সাংস্কৃতিক আন্দোলনের জন্য ক্ষতিকর।
দেশের সব চলচ্চিত্রকর্মী, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সংগঠনটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘শিল্প ও সংস্কৃতির স্বাধীন বিকাশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, সমাজ এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সবার যৌথ দায়িত্ব।’
Leave a Reply