1. admin@alokitodesh.com : admin :
বিপদের সময় এখন নতুন ভরসা, চালু হলো ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা - alokitodesh
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম:
বাঞ্ছারামপুরে গ্রাম আদালত কার্যক্রম সম্পর্কে জনসচেতনতা সভা নরসিংদীতে পুকুর থেকে ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধার সুন্দরগঞ্জে বজ্রপাতে ৪ নারীসহ আহত-৫ জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীতে জবি ছাত্রদলের বৃক্ষরোপণ সাদুল্লাপুরে ডিবির অভিযানে ২৯৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার রংপুরে বিএনপির ৪৩ নেতাকর্মীর এনসিপিতে যোগদান সুন্দরগঞ্জে খেলতে গিয়ে পুকুরে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু দুধের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ালে শক্তিশালী হবে প্রান্তিক অর্থনীতি’ রংপুরের ডিসি রংপুরে ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল, ভিডিও ভাইরাল জবি ক্যারিয়ার ক্লাব: সাফল্যের দেড় দশকের অগ্রযাত্রার উপাখ্যান

বিপদের সময় এখন নতুন ভরসা, চালু হলো ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা

  • আপডেট : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬
  • ১৮ জন দেখেছেন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
গভীর রাতে হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে কিংবা দুর্ঘটনায় আহত রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হলে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়ায় একটি অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করা। বিশেষ করে গ্রামের মানুষদের জন্য এই ভোগান্তি যেন বহুদিনের বাস্তবতা।

সময়মতো গাড়ি না পাওয়া, অতিরিক্ত ভাড়া, দূর থেকে অ্যাম্বুলেন্স আনতে বিলম্ব, আর অর্থ সংকটে অসহায় হয়ে পড়া পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের সেই কষ্ট কিছুটা হলেও কমতে শুরু করেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শান্তিরাম ইউনিয়নে। সেখানে চালু হয়েছে বিনামূল্যের অ্যাম্বুলেন্স সেবা।

এলিকো এগ্রোভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও শান্তিরাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. দাছিজুল হক আনিছের ব্যক্তিগত উদ্যোগে চালু হওয়া এই সেবা স্থানীয় মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো এই উদ্যোগকে দেখছেন আশার আলো হিসেবে।

সম্প্রতি ইউনিয়নের পরান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সেবার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সমাজসেবক, তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল এক ধরনের মানবিক আবহ। অনেকের মুখেই ছিল দীর্ঘদিনের কষ্টের গল্প, আবার নতুন এই সেবা ঘিরে স্বস্তি ও আশার কথাও।

অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আলহাজ্ব মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ধুবনী মহিলা কলেজের প্রভাষক শরিফুল ইসলাম শাহিন, ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য শাহজাহান ইসলাম দুখুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বক্তারা বলেন, গ্রামীণ এলাকায় জরুরি চিকিৎসাসেবার অন্যতম বড় সংকট হলো দ্রুত রোগী পরিবহনের ব্যবস্থা না থাকা। অনেক সময় প্রসূতি মা, স্ট্রোকের রোগী কিংবা দুর্ঘটনায় আহত মানুষকে সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। কেউ কেউ পথেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বহন করাও কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। এমন বাস্তবতায় বিনামূল্যের অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও মানবিক উদ্যোগ।

স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়নের অনেক গ্রাম থেকে উপজেলা সদর বা জেলা শহরে রোগী নিতে দীর্ঘ সময় লাগে। রাতে যানবাহনের সংকট আরও বেশি প্রকট হয়। আগে অনেক পরিবার রোগী নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যেতেন। এখন অন্তত জরুরি মুহূর্তে পাশে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যাবে, এই বিশ্বাসই মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে।

পূর্ব শান্তিরাম গ্রামের বাসিন্দা রোসনা বেগম (৫৩) বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হইলে সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় গাড়ির জন্য। গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায় না, আবার অনেক সময় ভাড়াও বেশি চায়। গরিব মানুষ এত টাকা কই পাবে? এই সেবা চালু হওয়ায় অন্তত এখন মনে সাহস পাইতেছি। বিপদের সময় একটা ভরসা তো থাকলো।’

একই গ্রামের নবির হোসেন (৬৫) বলেন, ‘আগে গ্রামের কেউ গুরুতর অসুস্থ হইলে পুরো পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে যাইতো। কেমনে হাসপাতালে নিবে, কই থেকে গাড়ি পাইবে, এই চিন্তায় মানুষ অসহায় হইয়া যাইতো। অনেক সময় গাড়ির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হইছে। এখন ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু হওয়ায় অন্তত সেই ভয়টা কিছুটা কমবে।’

কালিতলা গ্রামের গৃহিণী ফজিলা বেগম (৫৫) বলেন, ‘গরিব মানুষের জন্য এই সেবাটা অনেক বড় উপকার। আগে কেউ অসুস্থ হইলে গাড়ির জন্য এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করতে হইতো। টাকার অভাবে অনেকে সময়মতো হাসপাতালে যাইতেও পারতো না। এখন অন্তত সেই কষ্টটা কিছুটা কমলো।’

সাবেক ছাত্রনেতা রাশেদুল ইসলাম রানু বলেন, ‘গ্রামীণ এলাকায় চিকিৎসা জরুরি অবস্থায় সবচেয়ে বড় সংকট দ্রুত পরিবহনের অভাব। সামান্য দেরির কারণেও অনেক সময় রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। এই বাস্তবতায় বিনামূল্যের অ্যাম্বুলেন্স সেবা শুধু একটি যানবাহন নয়, এটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত একটি মানবিক উদ্যোগ।’

ধুবনী মহিলা কলেজের প্রভাষক শরিফুল ইসলাম শাহিন বলেন, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ে জরুরি চিকিৎসার সময়। সময়মতো হাসপাতালে নিতে না পারায় অনেক পরিবারকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এমন বাস্তবতায় বিনামূল্যের অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত মানবিক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। বিশেষ করে দরিদ্র মানুষের জন্য এটি অনেক বড় সহায়তা হয়ে উঠবে।’

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে এমন জনসেবামূলক কার্যক্রম বর্তমান সমাজে ইতিবাচক বার্তা বহন করে। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এভাবে এগিয়ে এলে গ্রামের সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে এটি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবেও কাজ করবে।

এলিকো এগ্রোভেট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. দাছিজুল হক আনিছ বলেন, ‘গ্রামের মানুষ যেন জরুরি মুহূর্তে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই চিন্তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিপদের সময় একজন মানুষ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে পারলে সেটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি। আমি চাই, সাধারণ মানুষ অন্তত চিকিৎসার জন্য গাড়ির অভাবে কষ্ট না পাক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা থেকেই এই সেবা চালু করা হয়েছে। মানুষের দোয়া আর ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় পাওয়া। ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।’

স্থানীয়দের আশা, এই সেবা নিয়মিত চালু থাকলে শুধু শান্তিরাম ইউনিয়ন নয়, আশপাশের এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন। তাদের মতে, গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ নতুন দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved © 2019 alokitodesh.com
আইটি সহযোগিতায় আব্দুল্লাহ ফাহাদ জাকির
Copyright © 2025 | alokitodesh.com | All Rights Reserved.