ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা এবং সমুদ্রে মাইন স্থাপনের চেষ্টায় নিয়োজিত কয়েকটি নৌযানকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের কাছাকাছি এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির পাশে অবস্থিত এই বন্দর আব্বাসেই ইরানের প্রধান নৌঘাঁটিটি রয়েছে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ওই এলাকায় বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর দিয়ে জানায়, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করছে। তবে ইরানি বাহিনীর সম্ভাব্য হুমকি থেকে মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তা দিতে ও আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। নিজেদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
আলোচনায় অগ্রগতি, তবে চুক্তি দূরে
এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তবে এখনই যুদ্ধ শেষ করার মতো চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হচ্ছে না বলে পরিষ্কার করেছেন তিনি।
ইসমাইল বাঘাই বলেন, “আলোচ্য বিষয়গুলোর বড় একটি অংশে সমঝোতা হয়েছে। তবে চুক্তি স্বাক্ষর খুব কাছাকাছি—এমন দাবি করার সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি।”
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা আসন্ন বলে ইঙ্গিত দিলেও পরে আলোচকদের তাড়াহুড়ো না করার নির্দেশ দেন। অবশ্য মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও একটি সম্ভাব্য সমঝোতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
খসড়া সমঝোতায় যা আছে
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, দুই পক্ষের টেবিলে থাকা খসড়া সমঝোতায় মূলত তিনটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন দফায় আলোচনা শুরু করা।
তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জব্দ থাকা ইরানি অর্থ ফেরত দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
নেতৃত্বের যোগাযোগ জটিলতা ও পটভূমি
মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে একটি অজ্ঞাত স্থানে অবস্থান করছেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা জটিল হয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা প্রত্যাশার চেয়ে ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে তীব্র সংঘাত শুরু হয়। এতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যায়। এরপর গত ৮ এপ্রিল থেকে দুই পক্ষ একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে উত্তেজনা এখনো পুরোপুরি কমেনি।
Leave a Reply