মোঃ রিজভী আহম্মেদ রিজোয়ান,নওগাঁ ।। নওগাঁর মান্দায় চলছে শোকের মাতম। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে দিশেহারা ৯টি পরিবারের সদস্যরা।
পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দে যোগ দিতে কর্মস্থল নোয়াখালী থেকে বাড়ি ফিরছিলেন একই এলাকার ৯ বন্ধু। বাসভাড়া ১৮০০ টাকা বেশি হওয়ায় উঠেছিলেন ট্রাকে। কিন্তু সেই ১৮০০টাকা বাঁচাতে গিয়ে ট্রাকে করে তাদের যাত্রা যে জীবনের শেষযাত্রা হবে, তা কে জানতো!
সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইলের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর পূর্ব পাড়ে এক ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৫টি তাজা প্রাণ, যার মধ্যে রয়েছেন জেলার মান্দার সেই ৯ বন্ধু। উপজেলার এই ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা আর শোকের ছায়া।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী থেকে ছেড়ে আসা একটি রডবোঝাই ট্রাক ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের যমুনা সেতুর পূর্ব দিকে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। মুহূর্তের মধ্যেই রডবোঝাই ট্রাকটি উল্টে গিয়ে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে মিলিয়ে মোট ১৫ জন নিহত এবং ১০ জন গুরুতর আহত হন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ৯ জন বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন।
নিহতরা হলেন, রাজেন্দ্রবাটি গ্রামের সুলতানের ছেলে তারেক (২১), আব্দির রশিদের ছেলে আব্দুল বারেক (২৪), আব্দুর রহিমের ছেলে বাদশাহ (২৮), একাব্বরের ছেলে সোহাগ (২১), শহিদুলের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৬), জাদর আলীর ছেলে মাইনুল (৩০), আব্দুর রশিদের দুই ছেলে ময়নুল ও গিয়াস ও একই গ্রামের সাগর (২৬)। এ ছাড়া, নিয়ামতপুর উপজেলার মালঞ্চি গ্রমের সাইদুলের ছেলে সারিকুল।
নিহত তারেকের বাবা সুলতান হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তারা নোয়াখালী এলাকায় ফেরি করে মানুষের ফেলে দেওয়া চুল বাঁচানো, ভাঙা মোবাইল ও ছোট ছোট প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি করতো। ঈদের ছুটিতে বন্ধুবান্ধব মিলে সবাই একসাথে বাড়ি আসছিল। বাসে ১৮০০ টাকা ভাড়া বেশি চাচ্ছিল, তাই একটু টাকা বাঁচাতে সবাই মিলে ট্রাকে উঠেছিল। ফেনী থেকে তারা ট্রাকে যাত্রা শুরু করে। কিন্তু এই সামান্য টাকার জন্য তাদের সব শেষ হয়ে গেল।
একই ইউনিয়নের ৯ যুবকের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভারশোঁ ইউনিয়নসহ পুরো মান্দা উপজেলায় কান্নার রোল পড়েছে। নিহতদের পরিবারে চলছে চরম আহাজারি। উপার্জনক্ষম সন্তানদের হারিয়ে দিশেহারা বাবা-মা ও স্বজনেরা। স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসী নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ গ্রামে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
মান্দা থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম বলেন, নিহত ৯ জনের বাড়ি মান্দায় বলে সনাক্ত করা গেছে। আমাদের ধারণা, নিহতদের মধ্যে আরও অনেকেই মান্দার থাকতে পারেন। তারা সবাই একসঙ্গে নোয়াখালীতে ব্যবসা করতেন। বাকিদের পরিচয় সনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
Leave a Reply