স্টাফ রিপোর্টার
খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এর একাডেমিক, প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন স্বাক্ষরিত ওই পত্রে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক চিকিৎসাশিক্ষা, গবেষণা ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের স্বাস্থ্যখাতে চিকিৎসাশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২১ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদে “খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২১” পাসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে “শেখ হাসিনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়” নামে যাত্রা শুরু করলেও পরবর্তীতে এর নাম পরিবর্তন করে “খুলনা মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়” রাখা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি খুলনার নিরালা আবাসিক এলাকার ভাড়াকৃত ভবনে প্রশাসনিক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
তবে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস ও পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক সম্প্রসারণ, গবেষণা কার্যক্রম এবং চিকিৎসাসেবা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে পরিচালিত হলেও দক্ষিণাঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এর সম্ভাবনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালকে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে ব্যবহার করা গেলে শিক্ষা, গবেষণা ও চিকিৎসাসেবা একইসঙ্গে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ বাড়বে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তৈরির পথ সহজ হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারের ঘোষিত “সবার জন্য স্বাস্থ্য” এবং “সার্বজনীন চিকিৎসা” বাস্তবায়নের লক্ষ্য সামনে রেখেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৩ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও খুলনার জেলা প্রশাসক খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিদর্শন করে এটিকে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে উপযুক্ত বলে মত দেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খুলনা বিভাগে দীর্ঘদিন ধরেই একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আধুনিক গবেষণাভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রয়োজন ছিল। অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রমে গতি আসবে এবং দক্ষিণাঞ্চলের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীমুখী হওয়ার চাপও কিছুটা কমবে। একইসঙ্গে চিকিৎসা শিক্ষা, স্বাস্থ্য গবেষণা ও বিশেষায়িত সেবায় খুলনা নতুন একটি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।
খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রফিকুস সালেহীন বলেন, বর্তমানে বিষয়টি স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন মিললে ধাপে ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণের কাজ শুরু করবো।
Leave a Reply