যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউসের কাছে আবারও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় এক বন্দুকধারী গুলি ছুড়লে সিক্রেট সার্ভিসের পাল্টা গুলিতে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় একজন পথচারীও আহত হয়েছেন। ঘটনার পরপরই পুরো হোয়াইট হাউস এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে লকডাউন জারি করা হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সে সময় হোয়াইট হাউসের ভেতরেই অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাসভবনের কাছে দ্বিতীয়বারের মতো এমন সশস্র হামলার ঘটনা ঘটল।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
মার্কিন গণমাধ্যমের বরাতে সিক্রেট সার্ভিসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পেনসিলভানিয়া অ্যাভিনিউ এবং সেভেন্টিনথ স্ট্রিট নর্থওয়েস্টের মোড়ের কাছে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে (চেকপোস্ট) ওই বন্দুকধারী প্রথম গুলি ছোড়ে। খবর পেয়ে সিক্রেট সার্ভিসের পুলিশ কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পাল্টা গুলি চালান। এতে ওই বন্দুকধারী গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
পাল্টা গুলির সময় সেখানে উপস্থিত এক পথচারী আহত হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে সিক্রেট সার্ভিস।
সাংবাদিকদের মাঝে আতঙ্ক, লকডাউন
গোলাগুলির সময় হোয়াইট হাউসের নর্থ লন (উত্তর চত্বর) এলাকায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। সিএনএনের সাংবাদিকেরা জানান, হঠাৎ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনে সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা ‘গুলি চলছে, নিচু হোন’ বলে চিৎকার করতে থাকেন। এরপরই সাংবাদিকদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিং রুমে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং রুমটি আটকে দেওয়া হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও পোস্ট করে ঘটনার ভয়াবহতার বিবরণ দেন এবিসি নিউজের প্রধান হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা সেলিনা ওয়াং।
তিনি লেখেন, “আমি হোয়াইট হাউসের নর্থ লনে দাঁড়িয়ে আইফোনে ভিডিও করছিলাম। ঠিক তখনই মনে হলো একসঙ্গে অনেকগুলো গুলি ছোড়া হলো। সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীরা আমাদের দৌড়ে প্রেস ব্রিফিং রুমে যেতে বলেন।”
রাইফেল হাতে সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা পুরো নর্থ লন এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ইস্টার্ন টাইম (ইটি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক্সে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এফবিআই সদস্যরা সিক্রেট সার্ভিসকে মাঠপর্যায়ে সহায়তা করছেন।
এক মাসে দ্বিতীয় ঘটনা
হোয়াইট হাউসের নিরাপত্তাবেষ্টনীতে এমন হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে গত ৪ মে-ও এক সশস্ত্র সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিস কর্মকর্তাদের গোলাগুলি হয়েছিল। সেবারও ওই ব্যক্তি গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সিক্রেট সার্ভিসের গুলিতে আহত হন।
এছাড়া গত ২৬ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসির একটি হোটেলে হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের নৈশভোজের সময়ও গুলির ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন কোল টমাস অ্যালেন নামের এক ব্যক্তি শটগান হাতে নিরাপত্তাচৌকি পার হওয়ার সময় সিক্রেট সার্ভিসের সঙ্গে গুলিবিনিময় হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগে বর্তমানে তাঁর বিচার চলছে, যদিও আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন অ্যালেন। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও হোয়াইট হাউসের সামনে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটল।
Leave a Reply