স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার দাকোপে মৎস্য ঘের লুটপাট, জোরপূর্বক ঘের দখল, চাঁদাবাজী ও ভূমিদস্যুদের করল থেকে রক্ষা পেতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ দুপুর ২টায় খুলনা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতা করেন মোঃ বাবলু সানা।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, দাকোপ উপজেলার ১নং পানখালি ইউনিয়নের খোনা গ্রামের বাসিন্দা মৃত সখিল উদ্দিন সানার ছেলে মোঃ বাবলু সানা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে খোনা গ্রামের ৩৩ বিঘে জমিতে মৎস্য ঘের করে আসছেন। গত ২২ মে রাত ১০টার দিকে খোনা গ্রামের মৃত হাসেন ফকিরের ছেলে বাচ্চু ফকির (৪৫) এর নেতৃত্বে একই গ্রামের রসুল গাজী (৩২), মুকুন্দ মন্ডল (৪০), আব্দুল্লাহ শেখ (৪২), আল-আমিন শেখ (২৫), তৈবুর সানা (২৬), চম্পা সরদার (৩০), ইলিয়াজ ফকির (২৫), মোকাম সানা (৫৬), জাফর সরদার (৩৫), লতিফ শেখ (৩০), শাহীন শেখ (৪০), পংকজ কবিরাজ (৬৫)সহ অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা একই গ্রামের মোঃ জসিম (৩০), মোঃ মুছা (৩২) ও মোঃ সাজ্জাদ (৪৫)সহ আরো দুইজনের উপর মৎস্য ঘেরের বাসায় এসে অতর্কিত হামলা চালায়।
গুরুতর অবস্থায় এদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ সময় ঘেরের বাসায় রাখা এক লক্ষ টাকার মাছসহ ঘেরের বাসায় রাখা বিভিন্ন মালামাল সামগ্রী নিয়ে যায়। গত ইং-১৬/০৫/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা ৭টার দিকে আসামীগণ অবৈধভাবে দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, লোহার রড়, শাবল নিয়ে আমার দখলকৃত ঘেরে অনধিকার প্রবেশ করে ঘেরটি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ঘেরের কেয়াটেকারকে ঘের হতে বের হয়ে যেতে বলেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। আসামীরা ঘেরের কর্মচারী মহিবুর বয়াতি (৫১)কে মারপিট করে। মুকুদ মন্ডল ঘেরের কেয়ারটেকারকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে জোর পূর্বক যের হতে বের করে দেয়।
আসামী মহিবুর বয়াতির মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পানিতে ছুড়ে ফেলে। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনটি পানি থেকে তুলে দেখা যায় মোবাইল ফোনটি ভেঙ্গে নষ্ট হয়। যার ফলে আনুমানিক তিন হাজার টাকার ক্ষতি সাধন হয়েছে। ঐ সময় অন্যান্য আসামীদের উপস্থিতিতে পুণরায় প্রকৃত জমির মালিক সরদার আবু আশরাফের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সকল আসামীরা সম্মিলিতভাবে ঘেরে জাল ফেলে বাগদা চিংড়ি ও সাদা মাছ মারা শুরু করে। আসামিরা ৩০ হাজার টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ঘেরের শেয়ার মোঃ আকরাম ফকির বাদী হয়ে ওইদিন সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা করেন।
গত ইং-২০/০৫/২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে আসামী আলামিন শেখ ঘেরের পাড়ে গিয়ে ঘেরের কেয়ারটেকার মহিবুর বয়াতিকে পা ভেঙ্গে ফেলার হুমকি প্রদান করে। একই তারিখ রাত ১১টার দিকে আসামীগণ আমাদের ঘের হতে মাছ ধরে নিয়ে যায়। যার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার টাকা। আসামী পংকজ কবিরাজসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে আদালতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আইন অমান্য করে মৎস্য ঘেরে জোরপূর্বক মাছ ধরে। আসামী রসুল গাজী বেশ কয়েকবার আমাকে এবং আমার ছেলেকে ডেকে বলে যে, হয় ঘেরের দখল ছেড়ে দিতে হবে অন্যথায় ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে হবে। আসামীরা বার বার দখলের চেষ্টা করলে আমার বৈধ কাগজপত্রের আলোকে আমরা আসামীদের ঘের দখলের চেষ্টা করে।
Leave a Reply