আবু রায়হান, রংপুর ব্যুরো।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেছেন, শিশু রামিশাকে শুধু ধর্ষণই করা হয়নি, বরং নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এমন বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, দেশে ধারাবাহিকভাবে হত্যা, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা বেড়ে চললেও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে রংপুরের পাগলাপীর স্কুল অ্যান্ড কলেজের হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট ও রংপুর মহানগর শাখার সদস্য প্রার্থী ও অগ্রসর কর্মী ‘শিক্ষা শিবির’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে সাধারণ মানুষ আজ চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শুধু সংবিধান নিয়েই পড়ে আছেন। কথায় কথায় তিনি সংবিধানের দোহাই দিচ্ছেন। তাদের বাস্তব সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সংগঠক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী-এর ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক সহনশীলতার পরিবর্তে ভিন্নমত দমনে সহিংসতার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি দোষীদের বিচারের দাবি জানান।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও পদ্মা ব্যারাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প অনুমোদন করায় সেটিকে স্বাগত জানানো হলেও উত্তরাঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত রয়েছে। তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। অবিলম্বে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
গণভোট, জুলাই সনদ ও সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের মানুষ পরিবর্তনের প্রত্যাশায় জাতীয় গণভোটে বিপুল সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু সরকার পরবর্তীতে জুলাই গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল করে জনগণের সেই আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাম্প্রতিক সময়ে সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্ট-সংক্রান্ত বিধান পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকার আবারও প্রশাসনিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার পথে হাঁটছে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তব্যের শেষদিকে মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, দেশের চলমান সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে ১১ দলের পক্ষ থেকে সরকারকে আল্টিমেটাম দেন তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর-দিনাজপুর সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, অঞ্চল টিম সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগর আমির এটিএম আজম খান, নীলফামারী জেলা আমির ও নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আব্দুস সাত্তার, রংপুর মহানগর অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ও রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আল আমিন হাসান, মহানগর কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহজাহান সিরাজ প্রমুখ।
Leave a Reply