আমিনুর রহমান, সাতক্ষীরা
সুন্দরবনে গুলিতে সাতক্ষীরার গাবুরার জেলে আমিনুর রহমান নিহত হওয়ার ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে খুলনার কয়রা থানায়। নিহতের পরিবার ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক অভিযোগে এ মামলা করা হয়।
আমিনুর রহমানকে গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে নিহতের ভাতিজা অলিউল্লাহ্ গাজী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামী করা হয়েছে বন বিভাগ খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, পশ্চিম বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক শামীম রেজাসহ অজ্ঞাতনামা ৯-১০ জন।
অপরদিকে, বন বিভাগের পক্ষ থেকে খুলনা স্মার্ট টিম দুই এর দলনেতা ফরেস্টার মুক্তাদির রহমান বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাঁধা, হামলা, মারপিটের অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আসামী করা হয়েছে নিহত জেলে আমিনুর রহমান ও ওয়ায়েস কুরুনীসহ অজ্ঞাতনামা দুইজন। উভয়ই সাতক্ষীরার গাবুরা ইউনিয়নের নয় নম্বর সোরা গ্রামের বাসিন্দা।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জানান, গেল বুধবার (২০ মে) নিহতের পরিবার ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি মামলা নথিভূক্ত করা হয়েছে। মামলা দুটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গেল ১৮ মে সুন্দরবন খুলনা রেঞ্জের পাটকোস্টা এলাকায় জেলে আমিনুর রহমান গুলিতে নিহত হন। সঙ্গীদের অভিযোগ, নলিয়ান ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা মোবারেক হোসেনের গুলিতে নিহত হন আমিনুর। বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে বৈধভাবে সুন্দরবনে কাকড়া আহরণে যান তিনি।
অপরদিকে, বন বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধভাবে বনের অভয়ারোন্য প্রবেশ করেন তারা। ধরতে গেলে বন বিভাগের কর্মীদের দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় আসামীরা। চায়না রাইফেলের মাঝখানে আঘাত করলে রাইফেলটি ভেঙে যায় ও ছিনিয়ে নিতে ধস্তাধস্তি করতে থাকে। ধস্তাধিস্তির এক পর্যায়ে রাইফেলের টিগ্রারে চাপ লেগে গুলি বেরিয়ে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হন ও পরে মারা যান।
ওইদিন দুপুরে মরদেহ সাতক্ষীরা উপকূলে পৌঁছানোর পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বনজীবীরা। বিক্ষুব্ধরা সাতক্ষীরা রেঞ্জ কার্যালয় ও বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কার্যালয় ভাংচুর করে। এ বিক্ষুব্ধ জেলেদের হামলায় আহত হন পাঁচ বনকর্মী। এ ঘটনায়ও বন বিভাগের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় পৃথক আরেকটি মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন শ্যামনগর থানার ওসি।
Leave a Reply