ফরহাদ হোসেন, খুলনা:
খুলনায় পৃথক অভিযানে বাবা-ছেলেসহ দুইজনকে ইয়াবাসহ আটক করেছে খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। আটককৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের না করে সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতিতে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১৮ মে) মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি রেইডিং টিম খুলনা সদর থানার ইকবাল নগর ওহাব এভিনিউ এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে একই এলাকার বাসিন্দা মোঃ মিলু শেখ (৪২) ও তার ছেলে মোঃ তাওহিদ শেখকে (১৮) পৃথকভাবে আটক করা হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, প্রথম অভিযানে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে অভিযানে মিলু শেখের ছেলে তাওহিদ শেখকে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার জিন্স প্যান্টের পকেট থেকে ৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার ওজন প্রায় ০.৪ গ্রাম।
পরে দুপুর ১২টার দিকে তাওহীদ এর পিতা মিলু শেখের নিজ বাসার দুই কক্ষবিশিষ্ট ফ্ল্যাটে অভিযান চালানো হয়। এসময় তার হাতে থাকা একটি কালো রঙের মানিব্যাগের ভেতর থেকে ৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার ওজন প্রায় ০.৬ গ্রাম বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
দুই অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় ব্যক্তিদের সাক্ষী রেখে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন খুলনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এর ‘ খ ‘ সার্কেলের পরিদর্শক মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন ও উপ পরিদর্শক মোছাঃ জাহানারা খাতুন। অভিযানে এএসআই মোঃ জিল্লুর রহমান, এএসআই মোঃ আব্দুল হালিম সরদারসহ অন্যান্য সদস্যরা অংশ নেয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, আটককৃতদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণির ১০(ক) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে “সংক্ষিপ্ত বিচার সিআর” মামলা করে খুলনার বিজ্ঞ চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
শুনানি শেষে আদালত মোঃ মিলু শেখকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানা। একইসঙ্গে মোঃ তাওহিদ শেখকে ৪ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, স্বল্প পরিমাণ মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত ও নিয়মিত মামলা প্রক্রিয়ার পরিবর্তে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংক্ষিপ্ত বিচার পদ্ধতি অনুসরণ করছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এতে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply