আবু রায়হান, রংপুর:
রংপুরের পীরগঞ্জে এক গর্ভবতী নারী ও তার গর্ভজাত সন্তানকে হত্যার দায়ে মাসুদ মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। বহুল আলোচিত এ মামলার রায়ে আদালত ঘটনাটিকে ‘নির্মম ও ন্যক্কারজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
রোববার (১৮ মে) রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মাসুদ মিয়া পীরগঞ্জ উপজেলার মোনাইল গ্রামের সাহেব মিয়ার ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে ঢাকার আশুলিয়ায় একটি গার্মেন্টসে চাকরির সময় শান্তনা খাতুনের সঙ্গে মাসুদ মিয়ার পরিচয় হয়। শুরুতে তারা পরস্পরকে ‘দুলাভাই’ ও ‘শালী’ বলে সম্বোধন করলেও একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়, শারীরিক সম্পর্কের একপর্যায়ে শান্তনা খাতুন গর্ভবতী হন। এরপর তিনি মাসুদকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু মাসুদ বিষয়টি গোপন রেখে স্ত্রী-সন্তানসহ নিজ গ্রাম পীরগঞ্জে চলে আসেন। পরে শান্তনা খাতুন তাকে খুঁজতে পীরগঞ্জে এসে স্থানীয়দের সামনে নিজেকে মাসুদের স্ত্রী দাবি করেন। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার আগের দিন স্থানীয়ভাবে একটি বৈঠক বসে। সেখানে শান্তনা খাতুন বিয়ের দাবি জানিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করার হুমকি দেন। বৈঠকে মাসুদ তাকে বিয়ের আশ্বাস দিলেও পরদিন কৌশলে ডেকে নিয়ে যায় পাশের একটি আখ ক্ষেতে। সেখানে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় শান্তনা খাতুনকে। হত্যার সময় তার গর্ভের সন্তানও মারা যায় এবং মৃত কন্যাশিশুর জন্ম হয়।
পরে ২০২৩ সালের ১৫ জুলাই পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের গাজী খাঁ এলাকার একটি আখ ক্ষেত থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় এক নারী ও নবজাতক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পীরগঞ্জ থানার এসআই মো. নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পরে মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আফতাব উদ্দিন। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সুলতান আহম্মেদ শাহীন।
রায়ের বিষয়ে সদর কোর্টের কোর্ট ইন্সপেক্টর (ইনচার্জ) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। আদালত সবকিছু পর্যালোচনা করে আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “গর্ভবতী নারী ও গর্ভজাত সন্তান হত্যার মতো নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে এ রায় সমাজে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।
Leave a Reply