ভোটের ফলাফলও এখন সবার জানা। পশ্চিমবঙ্গের বরাহনগরের বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের পর পাল্টে গেছে অনেক সমীকরণ। নির্বাচনী লড়াইয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী থাকলেও শেষ পর্যন্ত জয়ের মালা পরা হয়নি ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই পরাজয় আর রাজনীতির মারপ্যাঁচ ছাপিয়ে তিনি এখন নিজের চিরচেনা জগত—অভিনয়ে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
গত কয়েক দিন জ্বরে ভুগে বেশ কাহিল ছিলেন সায়ন্তিকা। শরীর এখন কিছুটা ভালো। তবে ভোটের ফলাফল নিয়ে মনের এক কোণে কি বিষণ্ণতা কাজ করছে? প্রশ্নটি সুকৌশলে এড়িয়ে গিয়ে এই প্রাক্তন বিধায়ক বলেন, “একটা খারাপ লাগা তো থাকেই। মনখারাপ ঠিক বলব না। হয়তো মানুষের প্রত্যাশা আমার কাছে আরও বেশি ছিল। আমিই হয়তো সাধারণ মানুষের আশা পূরণ করতে পারিনি। তবে চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। নিজের সবটুকু দিয়েই কাজ করতে চেয়েছিলাম।”
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর ব্যারাকপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও পরিচালক রাজ চক্রবর্তী সরাসরিই জানিয়েছিলেন, তিনি আর রাজনীতির আঙিনায় থাকতে চান না। এমনকি তৃণমূল সাংসদ দেব-ও রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। সহকর্মীদের মতো সায়ন্তিকাও কি তবে রাজনীতির পাট চুকিয়ে দিচ্ছেন? এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সায়ন্তিকা যোগ করেন, “আগামী দিনে কী করব, তা এখনই বলতে চাই না। তবে আমার মূল পেশা অভিনয়, এখন সেখানে মন দিতে চাই। গত কয়েক বছর রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় নিজের শরীরচর্চায় কিছুটা ফাঁক পড়েছে। নিজেকে আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর উপযোগী করে প্রস্তুত করছি।”
বরাহনগরের নবনির্বাচিত বিধায়ক সজল ঘোষকে নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি। সায়ন্তিকার মতে, জনমতে যিনি বিজয়ী হয়েছেন, তাকে নিয়ে আলাদা করে কিছু বলার নেই। পরাজয় মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়। যে অভিনয় তাঁকে পরিচিতি দিয়েছে, সেই পর্দার জগতেই এখন নতুন করে মনোনিবেশ করতে চাইছেন তিনি।
এডি/ আমিন
Leave a Reply