এডি ডেস্ক:
সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের ভয়াবহ আক্রমণের শিকার হয়েছেন বাবলু গাজী নামের এক মৌয়াল। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি আর সঙ্গীদের অসীম সাহসিকতায় বাঘের মুখ থেকে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন তিনি। সোমবার সকালে তাকে সুন্দরবন থেকে উদ্ধার করে লোকালয়ে নিয়ে আসা হয় এবং বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আক্রান্ত বাবলু গাজী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের আব্দুল মালেক গাজীর ছেলে। জানা গেছে, গত রোববার সকালে সাতক্ষীরা রেঞ্জের কাছিকাটা এলাকার পায়রাটুনি খালে একদল মৌয়াল মধু সংগ্রহ করছিলেন। এসময় ঝোপের আড়ালে ওত পেতে থাকা একটি বাঘ অতর্কিতে বাবলু গাজীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই শিউরে উঠলেও সাথে থাকা অন্য মৌয়ালরা জীবন বাজি রেখে লাঠিসোঁটা নিয়ে চিৎকার করতে করতে বাঘের দিকে তেড়ে যান। মৌয়ালদের এমন সম্মিলিত প্রতিরোধে বাঘটি বাবলুকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে বনের গভীরে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
বাবলু গাজীর পিতা মালেক গাজী জানান, তিনি নিজেও সেই দলে উপস্থিত ছিলেন। চোখের সামনে ছেলেকে বাঘের মুখে দেখে তারা সবাই মরণপণ লড়াই চালিয়েছিলেন বলেই আজ তাকে জীবন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বাঘের আক্রমণে বাবলুর ঘাড়, পিঠ এবং কোমর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন থেকে লোকালয়ে ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। সোমবার ভোরে তাকে প্রথমে নীলডুমুর ঘাটে নিয়ে আসা হয় এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত জেলা সদরে পাঠানো হয়।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বাঘের কামড় ও নখের আঘাতে বাবলুর শরীরে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। এদিকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই মৌয়ালরা যথাযথ অনুমতি নিয়েই বনে প্রবেশ করেছিলেন। তাই নিয়মানুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে আহত মৌয়ালকে সরকারিভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। বর্তমানে তার পরিবার ও এলাকাবাসী বাবলু গাজীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন।
Leave a Reply