ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর থানাধীন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক নারায়ণহাট ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক এক অসহায় পরিবারের ওপর অত্যাচার ও জমি দখল পাঁয়তারার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) উপজেলা সদরের একটি রেষ্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী অসহায় পরিবারের সদস্য মো. আবুল হোসেন। তিনি উপজেলার নারায়ণহাট ইউনিয়নের জুজখোলা গ্রামের মৃত কোব্বাদ আলীর পুত্র। পেশায় একজন হতদরিদ্র কৃষক।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমি একজন কৃষক ও সহজ সরল মানুষ। অতি কষ্টে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করি। ভূমিহীন হিসেবে ৯৯-২০০০ সালে সরকার আমাকে স্থানীয় মৌজা লট-৪৪ নেপচুন এলাকায় ৯৯ বছরের জন্য এক একর জমি লীজ দেয়। যা পরবর্তীতে আমি ও আমার স্ত্রীর নামে ১৪ নং সৃজিত বিএস খতিয়ান মুলে প্রচার হয়। ওই জমির সব কাগজপত্র রেকর্ড ঠিকঠাক থাকলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা ও সাবেক নারায়ণহাট ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম তালুকদার ক্ষমতার জোরে আমাদের ভোগ দখলীয় জমি মিথ্যা মালিকানা দাবি করে জবর দখল করার পাঁয়তারা করছেন।
আবুল হোসেন বলেন, তিনি নেতা ও চেয়ারম্যান হওয়ায় ইতিপূর্বে আমি কোনো বিচার পাইনি। দলীয় শক্তি ব্যবহার করে আমাদের কোণঠাসা করে রাখেন। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী তিনি পালিয়ে যান। এখন মাঝে মাঝে এলাকায় আসেন আর গোপনে আমি ও আমার পরিবারকে হুমকী-ধমকীসহ এসব জমি দখলের নানা পাঁয়তারা করেন। তার সাঙ্গপাঙ্গরা হুমকি, মিথ্যা প্রপাগন্ডা ছড়িয়ে জমি দখলের চেষ্টা করেন। আমি এই অত্যাচারের বিচার চেয়ে আদালতে মামলা করেছি।
তিনি দাবী করেন, চলতি মৌসুমে আমার রোপিত ধান তিনি কাটতে বাধাঁ দেন এবং বলেন যে; ভবিষ্যতে জমিতে এলে চরম মূল্য দিতে হবে। আবুল হোসেনের আক্ষেপ; ইব্রাহিম নারায়ণহাট ইউনিয়ন আ.লীগের তিনবারের সভাপতি ছিলেন। এত অন্যায়, অবিচারের পরও সুযোগ বুঝে এলাকায় এসে তিনি কীভাবে দাফিয়ে বেড়ান?
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আবুল হোসেনের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম ও স্বজন মো. গোলাম আলীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার করেন আ.লীগ নেতা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইব্রাহিম। তিনি বলেন, আমি একসময় ইস্পাহানির মালিকানাধীন নেপচুন চা-বাগানের আইনী পরামর্শক ছিলাম। তখন বাগানের কিছু জায়গা নিয়ে বিরোধ থাকায় আমি এসব দেখভাল করতাম। আমি এখন সেখানে নেই। সুতারাং আমার স্বার্থও নেই। ফলে অভিযোগটি অবান্তর।’
Leave a Reply