বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের দীর্ঘদিনের পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের জন্য মঙ্গলবার এক স্মরণীয় দিন হয়ে রইল। নিজেদের বঞ্চনা ও প্রশাসনিক জটিলতার কথা জানাতে একদল চিকিৎসক সচিবালয়ে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করতে। তবে আনুষ্ঠানিক আবেদনের আগেই অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি সাক্ষাৎ পেয়ে যান। কোনো প্রকার প্রটোকলের জটিলতা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নিজে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে চিকিৎসকদের আবেদনপত্রটি গ্রহণ করেন এবং তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
আকস্মিক এই অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা তাদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও প্রশাসনিক বৈষম্যের চিত্র প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। তারা জানান যে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই ১ হাজার ৮২১ জন কর্মকর্তাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাঠামোয় এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে অনেক ক্ষেত্রে জুনিয়র কর্মকর্তারা সিনিয়রদের ওপর দায়িত্ব পালন করছেন। এতে পেশাগত মর্যাদার পাশাপাশি প্রশাসনিক চেইন অফ কমান্ডেও ব্যাঘাত ঘটছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এই সাক্ষাতের বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের প্রতিটি কথা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন। কর্মকর্তাদের লিখিত আবেদনটি গ্রহণ করে তিনি এই মানবিক ও পেশাগত সংকট নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন আন্তরিকতায় বঞ্চিত চিকিৎসকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা প্রত্যাশা করছেন, বর্তমান সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে দ্রুতই এই পদোন্নতি জটিলতার অবসান ঘটবে এবং মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ক্যাডারে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।
Leave a Reply