এডি ডেস্ক: দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবার রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আবদুল মালেক এক বিবৃতির মাধ্যমে এই নতুন কর্মসূচির কথা জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, দেশের ৬৪টি জেলাতেই এই আন্দোলন একযোগে পালিত হবে।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান বিবেচনায় এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে এই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি। বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ কর্মচারীরা, যার ফলে তারা এই দাবি আদায়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছেন। প্রতিটি জেলার সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০১৫ সালে কার্যকর হওয়া নীতিমালার কারণে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল হওয়ায় অনেক কর্মচারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে পদোন্নতিবঞ্চিত ও ব্লক পোস্টধারীরা এই বৈষম্যের শিকার। যদিও পরবর্তীতে দুটি উচ্চতর গ্রেড প্রথা চালু করা হয়েছিল, কিন্তু তা কর্মচারীদের প্রকৃত সমস্যা সমাধানে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। এমনকি দীর্ঘ এক দশক পার হয়ে গেলেও নতুন কোনো পে স্কেল বাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশা বাড়ছে তৃণমূল পর্যায়ে।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৯ম জাতীয় পে কমিশন গঠন করে সুপারিশ প্রণয়ন করলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান নয়। বাজেট বরাদ্দের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়েছে যে, সরকারের সদিচ্ছা থাকলে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এখনই দাবি পূরণ সম্ভব ছিল। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৯ম পে স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে অন্তত আংশিক বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া আগামী নির্বাচনে বিজয়ী সরকারের কাছে কর্মচারীদের প্রত্যাশা এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সম্ভাব্য পদক্ষেপের দিকেও নজর রাখছে সংগঠনটি।
Leave a Reply