আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ১০০টিরও বেশি সামরিক অভিযান চালানোর দাবি করেছে। শুক্রবার হিজবুল্লাহর মিডিয়া শাখার এক বিবৃতিতে, ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক এই হামলার সংখ্যা ১০৩-এ পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধে এক ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং একটি মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস করার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। জানা গেছে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক রকেট হামলা চালানো হয়েছে যার ফলে আপার গ্যালিলি অঞ্চলের মিতোলা বসতিতে সাইরেন বেজে ওঠে। ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, লেবানন থেকে বিপুলসংখ্যক রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর লক্ষ্যভিত্তিক হামলা জোরদার করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, অ্যাক্রি শহরের পূর্বে এলিয়াকিম ও টিফন ঘাঁটি এবং হাইফা শহরের জেভ এয়ার ডিফেন্স ঘাঁটিতে নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
এছাড়া আরও একটি ইসরায়েলি মেরকাভা ট্যাংক ধ্বংস করার কথাও জানানো হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ লেবাননের ম্হাইসিবাত ও কান্তারা উচ্চভূমির মধ্যবর্তী স্থানে আরেকটি মেরকাভা ট্যাংকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। একইসঙ্গে নাকোরা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে কাছাকাছি দূরত্বে সরাসরি সংঘর্ষ এবং ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে উত্তরের সীমান্তে চাপ বাড়তে থাকায় ইসরায়েলি বাহিনী অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুরোধ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। রকেট হামলার অংশ হিসেবে প্রথমে অন্তত ৩০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয় যা গ্যালিলি ও হাইফা উপসাগরীয় অঞ্চলে আঘাত হানে।
এদিকে, অবশেষে ইরান যুদ্ধে যোগ দিলো ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। শনিবার সকালে দক্ষিণ ইসরাইলের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে লড়াই শুরু করেছে গোষ্ঠীটি। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই হামলার ফলে দক্ষিণ ইসরাইলের বিয়ারশেবা ও আশপাশের শহরগুলোতে সাইরেন বেজে ওঠে এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইরান যুদ্ধে ইয়েমেন থেকে এটিই প্রথম হামলা বলে নিশ্চিত করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। তারা জানায়, ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করার পর তা প্রতিহত করতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পর থেকে হুথিরা ইসরাইলের ওপর হামলা বন্ধ করে। এরপর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরাইলি-মার্কিন আগ্রাসন শুরু হলে আবারও হুঙ্কার দেয় হুথি। সংঘাতের প্রায় এক মাসের মাথায় নতুন করে ইসরাইলে হামলার মাধ্যমে যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে জড়িত হওয়ার ইঙ্গিত দিল গোষ্ঠীটি।
Leave a Reply