বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে জালাল উদ্দিন ও তার সহযোগীরা ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করেছেন বলে অভিযোগ এনে তার মনোনয়ন বাতিল এবং সব দলীয় পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি উঠেছে।
সোমবার (১০ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে স্থানীয় বিএনপির একাংশ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দৈনিক আমার দিনের সম্পাদক আহসান হাবিব বরুন।
আহসান হাবিব বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ৩১ দফার আলোকে একটি নিরাপদ, আধুনিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখছেন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের মনোনীত এই প্রার্থী সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য হুমকি স্বরূপ। শুধু কিশোরগঞ্জ-২ নয়, জালাল উদ্দিন তারেক রহমানের জীবন পর্যন্ত ঝুঁকিতে ফেলতে পারেন।
আহসান হাবিব জানান, জালাল উদ্দিন সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি এবং একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিতর্কিত তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। পাকুন্দিয়ায় কাহার আকন্দকে পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত করতে জালাল উদ্দিন একাধিক অনুষ্ঠান আয়োজন করেন এবং সেখানে কাহার আকন্দকে প্রধান অতিথি করে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে করা সম্পূরক চার্জশিটকে একটি আলোচিত ও সফল ঘটনা হিসেবে প্রশংসা করেন। এ বিষয়ে তার নিজস্ব ফেসবুক আইডিতেও পোস্ট ছিল, যা এলাকায় ভাইরাল হয় এবং এই প্রার্থী সম্পর্কে মানুষের সন্দেহ ও ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তোলে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ৫ আগস্টের পরপরই জালাল উদ্দিন পাকুন্দিয়ার তিনটি বালু মহাল দখল করেন এবং সেখানকার বালু লুট করে বিক্রি করে দেন। সরকারি টেন্ডার হওয়া বালু মহালের সমঝোতার নামে ঠিকাদারদের কাছ থেকে দুই কোটি ৯২ লাখ টাকা সংগ্রহের অভিযোগও করা হয়।
এর মধ্যে এক কোটি ১৪ লাখ টাকা জেলা বিএনপির নাম করে এবং উপজেলা বিএনপির অফিস নির্মাণের নামে আত্মসাৎ করেন জালাল। একইসঙ্গে মামলার ভয় দেখিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করা, বিএনপির কর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দেওয়া এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বসাকে কেন্দ্র করে ভিপি কামালের অনুসারীদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটে।— দাবি আহসান হাবিবের।

মনোনয়ন পাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। কটিয়াদী-পাকুন্দিয়ায় ছাত্রদল নেতাদের দোকান থেকে তুলে নেওয়ার হুমকি, হাসিমুখ ক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে তার কর্মীদের হাতাহাতির পর মামলা ও পুলিশি তল্লাশি, এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা না পেয়ে তাকে বৈষম্যবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার করানো, এমনকি প্রবাসী দুজন বিএনপি কর্মীকে ফোনে হত্যার হুমকি—এসব ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয় যে কিশোরগঞ্জ-২ এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। অভিযোগ আসে, পাকুন্দিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মেধাবৃত্তির ফলাফল ঘোষণা অনুষ্ঠানে বাধা দিতেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন জালাল।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিএনপি স্থানীয় নির্বাচন বর্জন করলেও জালাল উদ্দিন মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং পরাজিত হন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেও তিনি বহাল থাকায় জেলা বিএনপি একটি সিন্ডিকেটের হাতে বন্দি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। বক্তাদের ভাষ্য, তারেক রহমানের ৩১ দফার মূল লক্ষ্য চাঁদাবাজ, দখলবাজ, দুর্নীতিবাজ ও পেশিশক্তি-মুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু জালালের কর্মকাণ্ড তার সম্পূর্ণ বিপরীত, যা এই অঞ্চলকে আবার ফ্যাসিবাদের দখলে ফিরিয়ে নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিএনপির নেতাকর্মী ও কিশোরগঞ্জ-২ এর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে যে, তিনি নির্বাচিত হলে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির কর্মীদের আবারও ঘরছাড়া হতে হবে।
জালাল উদ্দিনের মনোনয়ন বাতিল এবং সব দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান আহসান হাবিব। একইসঙ্গে নিজেকে এই আসনের উপযুক্ত মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনার জন্য ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
Leave a Reply